
ঝড়বৃষ্টির দিনে বাইরে বের হলে হঠাত হঠাত চমকে ওঠে না এমন মানুষ খুব কম-ই আছে। তবে ঝড়-বাদলের মধ্যে বিদ্যুৎ না চমকালে প্রকৃতি যেন পুরোপুরি ভাবে তার হিংস্র রূপ ধারণ করতে পারে না। আকাশে আলোর এই ঝলকানি আর গগনবিদারী আওয়াজের পেছনের বিজ্ঞানটা কী চলুন জেনে আসি। বিদ্যুৎ চমকালে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় আর আমরা সাধারণ দিনে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি তার থেকে আলাদা কিছুই নয়।
যখন আকাশে অনেক মেঘ করে তখন জলীয়বাষ্পগুলো এত ঠান্ডা হয়ে যায় যে বরফের আকার ধারণ করে এবং এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এই সব সংঘর্ষের ফলে ইলেক্ট্রিক চার্জ এর উৎপত্তি হয়। এভাবে চলতে চলতে একসময় মেঘের ঐ পুরো এলাকাটুকুই ইলেক্ট্রিক চার্জ এ পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
মেঘের উপরে পজিটিভ চার্জ আর নিচে সৃষ্টি হয় নেগেটিভ চার্জ। যেহেতু বিপরীতধর্মী চার্জ পরস্পরকে আকর্ষণ করে তাই মেঘের নিচের দিকে থাকা নেগেটিভ চার্জগুলো ভূমিতে বিদ্যমান অসংখ্য পজিটিভ চার্জ এর দিকে আসতে চায় আর যখনই তা কোন পর্বত, মানুষ বা একা দাঁড়িয়ে থাকা কোন গাছের কাছাকাছি আসে তার দিকে ছুটে যায়। উঁচু পর্বত বা গাছের মাথায় সহজেই পজিটিভ চার্জ গুলো পৌঁছতে পারে তাই এসব স্থানে বিদ্যুৎ পড়ার হার ও অনেক বেশি।
নেগেটিভ চার্জ এভাবে ঘুরতে থাকে আর পজিটিভ চার্জ ও তার আকর্ষনে উচ্চ স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। দুজনের দেখা হয়ে গেলেই বিকট শব্দে আপনার কানের দফারফা হয়ে যায়।
কিন্তু দুই ধরনের চার্জ এর মিলনে এমন শব্দ হবার কারণটা কী? এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে এই বিদ্যুৎ তার আশপাশের বায়ুকে প্রায় ৩০০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উষ্ণ করে ফেলে, যা কিনা সূর্যের পৃষ্ঠ থেকেও পাঁচ গুণ বেশি উষ্ণ! উচ্চ তাপমাত্রার এই বায়ু খুব দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর ছড়িয়ে পড়ার সময় আশপাশের বায়ুর উপর তীব্র চাপ পড়ে। পরমূহুর্তেই আবার যখন বায়ু ঠান্ডা হয়ে যায় আশপাশের বায়ু তীব্র সংকুচিত হয়ে নিজেদের স্থানে ফিরে আসতে থাকে। এতেই একটা বাজে শব্দের সৃষ্টি হয় যা কিনা ভাইব্রেশন আকারে পাশের বায়ু থেকে ক্রমান্বয়ে চলতে থাকে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে বাজ পড়ার আগেই কিন্তু আপনি আলোর ঝলকানি দেখতে পাবেন কারণ আলোর বেগ শব্দের বেগের থেকে অনেক বেশি।
বিদ্যুৎ চমকানো সম্পর্কিত কিছু মজাদার তথ্য জেনে আসি চলুন-
১। একবার বিদ্যুৎ চমকালে তা এক সেকেন্ডের দশ হাজার ভাগের এক ভাগ সময়কাল স্থায়ী হয় কিন্তু এই শক্তি দিয়ে একটি ১০০ ওয়াটের বাল্ব তিন মাস টানা চালানো যাবে!
২। বিদ্যুৎ চমকানোর সময় প্রতি সেকেণ্ডে প্রায় ৭৫ মাইল এলাকা এরা পরিভ্রমণ করে!
৩। বিদ্যুৎ চমকানোর সময় মানুষের শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হতে পারে!
৪। জাভা আইল্যান্ড এ পৃথিবীর সবথেকে বেশি বিদ্যুত চমকানোর ঘটনা ঘটে। বছরের প্রায় ২২০ দিন এখানের মাটি বিদ্যুতায়িত হয়।
বিদ্যুতায়িত হবার ঘটনা মানুষের জন্য অনেক বিপদজনক। অনেক মানুষের প্রাণহানী ও ঘটে এই কারণে। তাই প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির সময় নিরাপদে থেকে এই দূর্ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
Leave a comment